মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনির্ভাসিটি (MANUU)-র ‘অব্যবহৃত’ জমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ নোটিস
নতুন পয়গাম, এম. আহমেদ, হায়দ্রাবাদ: তেলেঙ্গানা সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ৫০ একর জমি পুনরুদ্ধারের কথা বলেছে। হায়দ্রাবাদের মানিকোন্ডা গ্রামে অবস্থিত ক্যাম্পাসের ভেতরের পড়ে থাকা ফাঁকা জমি কেন ব্যবহার করা হয়নি- তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তেলেঙ্গানা সরকার মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় (MANUU)-এর কাছ থেকে ৫০ একর জমি পুনরুদ্ধার করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের দাবি, সংশ্লিষ্ট পড়ে থাকা ল্যান্ড আজ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রঙ্গারেড্ডি জেলা কালেক্টরের দপ্তর MANUU-র রেজিস্ট্রার ইশতিয়াক আহমেদের কাছে একটি শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরের ফাঁকা জমি কেন পুনরুদ্ধার করা হবে না- তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, কারণ যে উদ্দেশ্যে জমিটি বরাদ্দ করা হয়েছিল, সে উদ্দেশ্যে এখনো পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন , “আমরা সম্প্রতি শোকজ নোটিসটি পেয়েছি। ফাঁকা জমিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি কলেজ নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত। MANUU তুলনামূলকভাবে নতুন প্রতিষ্ঠিত, আর বরাদ্দকৃত সব জমি ২০ বছরের মধ্যে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাছাড়া UGC-র নির্দেশিকা মেনেই কাজ করতে হয়।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: MANUU-র একদল শিক্ষার্থী এই পদক্ষেপকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে। তাঁদের মতে, বিষয়টি হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়–কাঞ্চা গাচিবাউলি জমি বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়। “এই জমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের—কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমরা এই মর্মে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছি,” বলেন ছাত্রনেতা তালহা মান্নান। শিক্ষার্থীদের এই ঐক্যবদ্ধ জোট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শোকজ নোটিসটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জমিখণ্ডটি হোস্টেল নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি করেছে। শোকজ নোটিশের পরেই শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। সেই প্রসঙ্গে আজ মাওলানা আজাদ স্টুডেন্টস্ ফেডারেশন-এর (২০২৪-২৫) সভাপতি ছাত্রনেতা তালহা মান্নান ও মাওলানা আজাদ স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের বিদায়ী সভাপতি ছাত্রনেতা মাতিন আশরাফ তেলেঙ্গানা বিধানসভার সদস্য MLA কালওয়াকুন্ট তারকা রামা রাও-এর সাথে উক্ত বিষয়ে বিশেষ বৈঠক করেন ও শেষে জয়েন্ট সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রনেতা মাতিন আশরাফ বলেনঃ মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনির্ভাসিটি ভারতবর্ষব্যাপী ডিসটেন্সে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী জুড়ে রয়েছে, ১২ -টিরও বেশি ক্যাম্পাস রয়েছে, ১২০ টি কোর্স এখানে চলমান। যারা পুরো ভারতবর্ষে প্রতিনিধিত্ব করে। এর সাথে যদি কোনো অন্যায় হয় তাহলে পুরো ভারতবর্ষজুড়ে কংগ্রেসের নাম খারাপ হবে। দ্বিতীয় বিষয়, উর্দু দোহায় দিয়ে, ‘মুহাব্বাত কি দুকান’ খুলনা ওয়ালা , হাতে সংবিধান নিয়ে ন্যায়যাত্রা, কাজ দেওয়ার কথা দেওয়ার লোকেদের কাছে আর কোনো হাতিয়ার বাকি নেই, তারা আজ শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানকে হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে। বরং আমরা বলছি এবং বলবোও আমাদের নজরে ওই সরকার ভালো যে সমস্যাকে ব্যাপারে কথা বলবে এবং সমস্যাকে সমাধান করবে।
দ্য হিন্দু পত্রিকা’কে রঙ্গারেড্ডি জেলা কালেক্টর সি. নারায়ণা রেড্ডি নিশ্চিত করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। তিনি এটিকে ২০২৪ সালে পরিচালিত একটি নিয়মিত অডিটের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে ‘সর্বত্র অব্যবহৃত জমিখণ্ড’ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। “বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাব তেলেঙ্গানা সরকারের কাছে পাঠানো হবে, এরপর সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে,” বলেন মিস্টার রেড্ডি। MANUU ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে ২০০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।








