বিস্ফোরক ইনিংস সরফরাজের, আবারও জাতীয় দলের ঢোকার বার্তা দিলেন গম্ভীরদের
নতুন পয়গাম, স্টাফ রিপোর্টার: সরফরাজ বোধহয় সবচেয়ে অভাগা ক্রিকেটার বর্তমান ভারতে। গতবার দল পাননি আইপিএলে। এবারে বেস প্রাইসে শেষ মুহুর্তে দল পেয়েছেন। আর জাতীয় দলের দরজা তো কবেই বন্ধ হয়ে গেছে। তবে উপেক্ষা, অবিচারের জবাব যেন ব্যাটেই দিচ্ছেন সরফরাজ খান। যিনি আইপিএলে দল পেতেই হিমশিম খেয়েছেন, তিনিই এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেন এমন এক ইনিংস, যা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে গোয়ার বিপক্ষে ১৪ ছক্কায় বিধ্বংসী ১৫৭ রান করে নিজের সামর্থ্যের জোরালো বার্তা দিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একাধিক বড় ইনিংস খেলেও দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে সরফরাজকে। ২০২৪ সালের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সুযোগ পেলেও সেটি স্থায়ী হয়নি। ছয়টি টেস্টে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরি করেও এক বছরের বেশি সময় আর জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি। একই চিত্র দেখা গেছে আইপিএলের নিলামেও, শেষ পর্যন্ত প্রায় ‘কোনোমতে’ দল জোটে তার কপালে।
গেল ১৬ ডিসেম্বর দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ আইপিএলের মিনি নিলাম। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় সরফরাজকে ঘিরে আগ্রহ থাকবে বলেই ধারণা ছিল। কিন্তু প্রথম দফায় তার নাম উঠলেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখায়নি। পরে এক্সিলারেটেড রাউন্ডে চেন্নাই সুপার কিংস বিড করে তাকে নেয়, তাও ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপিতেই।
নিলামের সেই উপেক্ষা আরও বেমানান ঠেকে, যদি তার সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে তাকানো যায়। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ৬৫.৮০ গড় ও ২০৩.০৮ স্ট্রাইকরেটে ৩২৯ রান করেছিলেন সরফরাজ। এরপর ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছেন তিনি। চার ম্যাচে তিন ইনিংসে ব্যাট করে ১১০ গড়ে, ১৭০.৫৪ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ২২০ রান।
সেই ধারাবাহিকতারই বিস্ফোরণ দেখা গেল বুধবার গোয়ার বিপক্ষে। মুম্বাইয়ের জার্সিতে ৭৫ বলে ১৫৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন সরফরাজ। ৯টি চার ও ১৪টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসে মাত্র ৫৬ বলেই সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় শতক এবং ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মুম্বাইয়ের হয়ে এর আগেও দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির রয়েছে, ৫০ বলে শতক করেছিলেন সূর্যকুমার যাদব ও শ্রেয়াস আইয়ার। সেই তালিকায় এবার আরও এক উজ্জ্বল ইনিংস যোগ করলেন সরফরাজ।
এই ম্যাচে তার ছোট ভাই মুশির খানও দারুণ সঙ্গ দেন, করেন ৬০ রান। সব মিলিয়ে ৫০ ওভারে মুম্বাইয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৪৪৪ রান, বিজয় হাজারে ট্রফির ইতিহাসে যা বিরল এক স্কোর।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গোয়াও অবশ্য হাল ছাড়েনি। অভিনব তেজরানার সেঞ্চুরি ও আরও দুই ব্যাটারের ফিফটিতে তারা ৩৫৭ রান তুলতে সক্ষম হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মুম্বাই।
তবে সরফরাজ মুম্বাইকে একাধিক ম্যাচে জেতালেও,গম্ভীরের মন জিততে পেরেছেন কি?








