ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের পাশে বেআইনি নির্মাণ
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়িঃ ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের পাশে বেআইনি নির্মাণ, জেলাশাসকের নির্দেশ সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন! ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের নির্মীয়মান ভবনের প্রাচীর ঘেঁষে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, জেলাশাসকের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব সেরেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা– এমনটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। ধূপগুড়ি পৌর এলাকার অন্তর্গত ধূপগুড়ি–ফালাকাটা গামী সড়কের ধারে অবস্থিত মহকুমা হাসপাতালের নির্মীয়মান ভবনের প্রাচীরের গা ঘেঁষে টিনের বেড়া দিয়ে সরকারি জমি ঘিরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই জেলাশাসক ধূপগুড়ি মহকুমা শাসককে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।
এরপর মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও বাস্তবে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। এমনকি বেআইনিভাবে ঘিরে রাখা টিনের প্রাচীরও অপসারণ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিদর্শন কি শুধুমাত্র ‘আই ওয়াশ’? কেন বেআইনিভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমানে ধূপগুড়ি পৌরসভা প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন স্বয়ং ধূপগুড়ি মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা। ফলে মহকুমা শাসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শহরবাসীর একাংশ।
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন কিছুটা তৎপরতা দেখালেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। নির্দেশ দিলেই বা কী হবে? আমরা আগেই জানতাম, মহকুমা শাসকের দপ্তর কিংবা পৌরসভা কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবে না। আধিকারিকদের পরিদর্শন ও কাজ বন্ধের নির্দেশ আসলে আই ওয়াশ ছাড়া কিছু নয়। যদি কোনও সাধারণ মানুষ এই ধরনের কাজ করত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পথে যাব।” অন্যদিকে, এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “ধূপগুড়িতে এখন বেআইনি কাজের প্রতিযোগিতা চলছে শাসকদলের নেতাদের মধ্যেই। কোথাও সরকারি জমি দখল করে পার্টি অফিস বানানো হচ্ছে, কোথাও দোকান তুলে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সেই জমি বিক্রিও করা হচ্ছে।
হাসপাতালের তিন নম্বর গেট হওয়ার কথা যেখানে, সেই জায়গা দখল করে ধর্মীয় নির্মাণের পেছনেও দুই তৃণমূল নেতার ভূমিকা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও আইনি পদক্ষেপ নেয় না বলেই মানুষের প্রশাসনের উপর আস্থা কমে যাচ্ছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নীরবতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে ধূপগুড়ি জুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, আদৌ কোনও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, নাকি বিষয়টি শুধুমাত্র পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।








