দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: ধুমপাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৫ শয্যার নতুন ভবনের সূচনা
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়ি: নাগরাকাটা ব্লকের আংরাভাষা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধুমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবশেষে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ শয্যা বিশিষ্ট নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনের ভিটে স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই উদ্যোগকে ঘিরে খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকাজুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদ থেকে জল চুইয়ে পড়ত। একাধিক ঘরে হাঁটুসমান জল জমে যেত। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন। কয়েক মাস আগে এই দুরবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দপ্তর। এরপর একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা দেখে প্রশাসনিক কর্তাদেরও চোখ কপালে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভিটে স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাগরাকাটার বিএমওএইচ ডা. ইরফান মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী বুলুচিক বড়াই, জেলা বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ উরাঁও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর, সহ-সভাপতি ফুলেশ্বরী রায়, আংরাভাষা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শান্তি ছেত্রী, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রেম ছেত্রী-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চরম দুরবস্থার মধ্যেই তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিতে হতো। বিশেষ করে বর্ষার সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে তাঁরা আশাবাদী। উল্লেখ্য, ধুমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন আশপাশের চা-বাগানের শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী ও প্রশাসন।








