পাঁচ বছরে নাগরিকত্ব ছেড়েছেন ৯ লক্ষ ভারতীয়
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
গত পাঁচ বছরে ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে ভিন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ। সংসদে এমনই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ পরিসংখ্যান পেশ করে বলেন, ২০২০ সালে ৮৫ হাজার ২৫৬ জন ভারতের নাগরিকত্ব ছাড়েন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১.৬ লক্ষ, ২০২২ সালে ২.২ লক্ষ, ২০২৩ সালে ২.১ লক্ষ এবং ২০২৪ সালে ২ লক্ষ।
বিরোধী শিবির থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ভারতের নাগরিকত্ব বর্জনকারীর সংখ্যা বছরে ১.২ থেকে ১.৪ লক্ষের মধ্যে ঘোরাফেরা করত। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১১ লক্ষ ৮৯ হাজার ১৯৪ জন ভারতের নাগরিকত্ব ছাড়েন। অর্থাৎ গত ১৪ বছরে ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, আচ্ছে দিনের অপেক্ষায় ১০ বছর থাকার পর দলে দলে মানুষ দেশ ছেড়ে, নাগরিকত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এক দশকে নতুন শিল্প নেই, বিনিয়োগ নেই, দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন নেই, কর্মসংস্থান নেই, রেকর্ড বেকারত্ব — তাই নাগরিকত্ব ছাড়ার হিড়িক চলছে। এর জন্য দায়ী কেন্দ্র সরকারের নীতি। তারা সিএএ করে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দিতে মরিয়া, কিন্তু দেশের নাগরিকদের ধরে রাখতে পারছে না।
তবে নাগরিকত্ব বর্জনকারীদের আয় কেমন ছিল, তাঁরা কোন পেশায় যুক্ত ছিলেন, তা খোলসা করেনি কেন্দ্র। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য সরকারের কাছে নেই। এর আগে, মার্চ মাসে কেন্দ্র সরকার সংসদে জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব বর্জনের কারণ একান্তই ব্যক্তিগত, শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষেই জানা সম্ভব। জ্ঞান ও মেধানির্ভর অর্থনীতির যুগে যে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা সরকার দ্বারা স্বীকৃত। এতে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সম্পর্কেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তখন কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, “সফল, সমৃদ্ধশালী এবং প্রভাবশালী প্রবাসী মানুষজন ভারতের জন্য সম্পদ। এই প্রবাসী নেটওয়র্কের দরুণ প্রাপ্ত সফ্ট পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে ভারত।”
পাশাপাশি কেন্দ্র জানিয়েছে, গত তিন বছরে বিদেশ থেকে ৫ হাজার ৯৪৫ ভারতীয়কে উদ্ধার করে এনেছে সরকার। ইসরাইল থেকে ‘অপারেশন অজয়ে’র মাধ্যমে অনেককে ফিরিয়ে আনা হয় দেশে। ‘অপারেশন সিন্ধু’র মাধ্যনে ইরান-ইসরাইল হামলার সময় ফিরিয়ে আনা হয় অনেককে।








