পাল্লা ২১০০ কিমি—ট্রেন বেজ থেকে সফল পরীক্ষা: ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্র চালু ডিআরডিওর নতুন সক্ষমতা
জাতীয় ডেস্ক
নতুন পয়গাম,নতুন দিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর: প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) বৃহস্পতিবার সফলভাবে চালিয়েছে ট্রেন-ভিত্তিক লঞ্চার থেকে অগ্নি প্রাইম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, এ পরীক্ষা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে—বিশেষভাবে নির্মিত রেল বেজড রকেট লঞ্চার থেকে চলমান অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ক্ষমতা এখন দেশে রয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অগ্নি প্রাইম প্রায় ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনের উপযোগী।
DRDO সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত পরীক্ষামূলক স্থল থেকে চলমান লঞ্চার সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি গৌরবজনকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে বলা যায়, চলমান (mobile) লঞ্চার সিস্টেম প্রতিপক্ষের নজর এড়িয়ে চালানো ও হিট অ্যান্ড রান কৌশলের মাধ্যমে প্রতিরক্ষার ইলাস্টিসিটি বাড়ায়—তাই আধুনিক সামরিক কৌশলে এর গুরুত্ব অনেক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান রেল-বেসড লঞ্চার সিস্টেম হলে দেশের যে কোনো অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব হবে এবং এসব প্ল্যাটফর্মকে টানেল বা রেললাইন ধরে অগোচরে রাখতে পারার সুবিধা প্রতিরক্ষাগতভাবে মূল্যবান।
পৃথিবীতে খুব কম দেশই এমন চলমান লঞ্চার প্রযুক্তি বা মোবাইল মিসাইল সিস্টেমে পারদর্শী; রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এগুলোর নামশ্রেণিতে বড়। ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রেক্ষিতে এবার ভারতও এই তালিকায় জুড়ে গেল বলে প্রতিরক্ষাবিষয়ক মহল মনে করছে। (ভিন্ন সময়ে করা ঘোষণায় উত্তর কোরিয়াও অনুরূপ দাবি করলেও তা পর্যাপ্ত প্রমাণসাপেক্ষ হয়নি।)
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান লঞ্চার সিস্টেম ভারতের প্রতিহিংসাত্মক সক্ষমতা ও যেকোনো অবাঞ্ছিত হামলার প্রতিরোধে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে এটি প্রতিপক্ষকে পরিকল্পনা ও লক্ষ্যচিহ্নিতকরণে নতুন অসুবিধা সৃষ্টি করে—কারণ মোবাইল প্ল্যাটফর্মটি স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও স্থির ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর নির্ভরশীল সনাক্তকরণকে জটিল করে তোলে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এরকম সক্ষমতার চালু হওয়া কেবল প্রতিরক্ষা-ক্ষেত্রে উত্তরণ নয়—এটি অঞ্চলে সামরিক প্রতিযোগিতা ও প্রতিরক্ষার চাহিদাকে আরও তীব্র করতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন আধুনিকীকরণের ফল এখনও বহুমাত্রিক হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, “বিশেষভাবে তৈরি রেল বেসড রকেট লঞ্চার থেকে এই ধরনের পরীক্ষা প্রথমবার করা হলো”—এবং তিনি এই সক্ষমতাকে দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। DRDO জানিয়েছে যে সফল পরীক্ষার পর প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও পরিপক্ক করা হবে এবং অভিযানগত প্রয়োগের সুসংহততা যাচাই করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রাসঙ্গিক বিবৃতি, বিকল্প লজিস্টিক প্রস্তুতি এবং নির্ভরযোগ্য অপারেশনাল প্রটোকল সম্পর্কে সরকার সময়মতো জানাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
টেলিগ্রাফি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘অগ্নি প্রাইম’-এর ট্রেন-ভিত্তিক লঞ্চার থেকে সফল উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিগতভাবে দেশের প্রতিরক্ষা সামর্থ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও সীমান্তসংশ্লিষ্ট ভূ-রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নও উত্থাপিত হবে—যা কূটনীতি ও পরামর্শমূলক নিরাপত্তা নীতিসমূহকে প্রভাবিত করতে পারে।








