‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে উড়িষ্যায় আটক মুর্শিদাবাদের ১২ হকার
নতুন পয়গাম, মুর্শিদাবাদ:
মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ থানার মহিশাসথলি গ্রামের ১২ জন যুবক উড়িষ্যায় হকারের কাজে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। গত ১৭ নভেম্বর, রবিবার উড়িষ্যায় পৌঁছেই ট্রেন থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আটক করে উড়িষ্যা পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে—কোনো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামসেরগঞ্জের মহিশাসথলি মোমিনপাড়া এলাকার শতাধিক যুবক প্রতিবছরই জীবিকার তাগিদে উড়িষ্যায় ফেরির কাজে যান। কিন্তু এবারকার পরিস্থিতি এতটা কঠিন হবে—কেউই তা ধারণা করতে পারেননি।
আটক যুবকদের পরিবার জানিয়েছে, তাঁদের থানায় না রেখে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর সদৃশ ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে নেই আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, নেই ঠিকমতো শোয়ার জায়গা। আরও গুরুতর অভিযোগ—খাবার-দাবারও প্রায় দেওয়া হচ্ছে না, ফলে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে চলেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর পাওয়ার পরই আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র উড়িষ্যা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তবুও পরিস্থিতির কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বারবার বলা হচ্ছে— “এক ঘণ্টা পরে ছাড়বে”, “দুই ঘণ্টা পরে ছাড়বে”—কিন্তু দুই দিন কেটে গেলেও মুক্তির কোনো খবর নেই।
ঘটনাকে ঘিরে গোটা গ্রামজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কাজের খোঁজে বাইরে যাওয়া নির্দোষ বাংলা শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হয়রানি নতুন নয়—এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিচয় যাচাইয়ের আগে এই ধরনের সন্দেহভিত্তিক আটক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
পরিবার, গ্রামবাসী এবং স্থানীয় নেতৃত্ব দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে আটক ১২ যুবকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।







