দেশভাগের জন্য দায়ী কংগ্রেস? এনসিইআরটি’র মডিউল নিয়ে বিতর্ক
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট: ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্র বিজেপি তথা এনডিএ জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের টার্গেট গান্ধী পরিবার। সম্প্রতি পদ্মশিবির ঢাকঢোল পিটিয়ে সাড়ম্বরে ইন্দিরা গান্ধির আমলে জারি হওয়া ‘জরুরি অবস্থা’র ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। লক্ষ্য একটাই, ইন্দিরা তথা কংগ্রেসকে কালিমালিপ্ত করা। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, মোদি সরকারের আমলে যেভাবে মিডিয়া ও প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হচ্ছে, কেন্দ্র সরকারের সমালোচক তথা ভিন্নমত পোষণকারীদের ইউএপিএ ধারায় জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে, তা ‘জরুরি অবস্থা’র থেকে কম কিছু নয়। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে বিরোধীরা ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ তকমা দিয়েছে।
এই আবহে এবার গেরুয়া শিবির সরাসরি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরুকে নিশানা করেছে। এবার এনসিইআরটি-র পাঠ্যক্রমে নেহরুকে দেশভাগের জন্য সরাসরি দায়ী না হলেও ঘুরিয়ে ‘কালপ্রিট’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনিতেই এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে দেশের ইতিহাস বিকৃতির ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। ইতিহাসের গৈরিকিকরণের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেই এনসিইআরটি-র রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভারত ভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য সরাসরি মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ, লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন এবং সর্বোপরি কংগ্রেসকে দায়ী করা হয়েছে।
কংগ্রেস বলতে সরাসরি নাম না করলেও যে নেহরুর দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে, তা বলাইবাহুল্য। এনসিইআরটি-র ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইয়ে একটি মডিউল প্রকাশ করা হয়েছে। সিলেবাসে একটি ‘পরিচ্ছদ সংযোজন’-এর নামে এই মডিউল প্রকাশ করেছে তারা। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এনসিইআরটি-র নয়া মডিউলে বলা হয়েছে, ‘দেশভাগ কেবল একজন ব্যক্তির কাজ ছিল না; বরং তিনটি শক্তির সম্মিলিত প্রয়াস ছিল। জিন্না নিজে দেশভাগের লক্ষ্যে প্রচার করছিলেন। কংগ্রেস এই দেশভাগ মেনে নিয়েছিল। আর মাউন্টব্যাটেনকে দেশভাগ বাস্তবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল।’
এনসিইআরটি-র এই পদক্ষেপ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এ কাজ করা হয়েছে। নতুন মডিউল পুড়িয়ে ফেলার ডাকও দেন তিনি। মোদি সরকারের জমানায় এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ গিয়েছে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের আরএসএস-যোগ সংক্রান্ত তথ্য। এছাড়াও বাদ পড়েছে গুজরাত দাঙ্গা প্রসঙ্গ। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র হিন্দুত্ববাদীদের তুষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কংগ্রেসকে দেশভাগের জন্য সরাসরি দায়ী করে আক্রমণ শানিয়েছেন। একবার লোকসভার অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় মোদি বলেছিলেন, এত বছর পরেও কংগ্রেসের বপন করা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বীজের পরিণতি ভোগ করছে দেশের ভারতীয় নাগরিকরা। এভাবে বরাবরই নিজেদের ব্যর্থতা বা অপদার্থতার দায় নেহরু-ইন্দিরা এবং জিন্নাহদের ওপর চাপিয়ে নিজেরা দায় মুক্ত হন মোদি-শাহরা।








